বিধবা পরমিলাকে বাড়িতে তুলে দিলেন ইউএনও, মেটালেন বিরোধ
স্টাফ রিপোর্টার:
বিধাবা পরমিলাকে ইউএনও বাড়িতে পৌছে বিরোধ মিটিয়ে দেন
স্বামীহারা পরমিলা। অনেক আগেই স্বামী মারা গেছেন। ছেলেদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। হঠাৎ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে লিটন ও তাপস। এই অভিযোগ নিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে যান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের কাছে। অভিযোগ শুনে পরমিলাকে নিজের গাড়িতে করে বাড়িতে দিয়ে আসেন ইউএনও। পরমিলা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত জুগলের স্ত্রী।
দুই ছেলে ও দুই মেয়ে পরমিলার। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে লিটন ও তাপস বাদাম বিক্রেতা। পরমিলাও অন্যের উপর নির্ভর না করে পরের বাড়িতে কাজ করেন। সেখান থেকে যা আয় হয়, সেটা দিয়ে নিজের খরচ মেটান। তার কিছু গচ্ছিত টাকা মেয়েদের দেওয়ার কারণে ছেলেদের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। পরমিলা ব্যাংকে গচ্ছিত ২ লাখ টাকার মধ্যে অর্ধেক মেয়েদের দিয়েছেন আর অর্ধেক ছেলেদের দিয়েছেন।
বৃদ্ধা পরমিলার দাবি, ছেলেরা তাকে ভুল বুঝিয়ে জমি লিখে নিয়েছে। এজন্য তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়।
ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে গাড়িতে উঠব এমন সময় এক বৃদ্ধা কথা বলতে চাইলেন। দেখলাম কান্নাকাটি করছেন। জিজ্ঞেস করলে জানালেন, ছেলেরা ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমি বৃদ্ধাকে বললাম, গাড়িতে উঠুন। আপনার বাড়ি যাব। তারপর যেতে যেতে জানতে পারলাম বৃদ্ধার নাম পরমিলা। স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বৃদ্ধা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তারপর বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছালাম। দুই ছেলের বৌ, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক বিবাদ মিটিয়ে বৃদ্ধাকে তার ঘরে তুলে দিয়ে আসি।’’
পরবর্তীতে ছেলেরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ভরণ-পোষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

No comments