আইনকে অমান্য করে অবৈধভাবে চলছে মহেশপুরের ইটভাটা, কৃষি ভান্ডার হুমকির মুখে




মোঃ রাশেদ সরোয়ার, মহেশপুর,প্রতিনিধিঃ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুরের অধিকাংশ ইটভাটা। কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে চলছে ভাটা। মহেশপুরের কৃষি ভান্ডার এখন হুমকির মুখে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটার মালিক লোকালয়ে এমনকি ফসলি জমির উপর অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মান করে কাঠ দিয়ে দেদারছে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইট তৈরি এবং পোড়ানোর জন্য ইটভাটায় স্তুপ করা হচ্ছে হাজার হাজার মন জ্বালানী কাঠ আর ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি। গাছ কেটে জ্বালানী করার কারনে একদিকে যেমন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তেমনি আবাদযোগ্য জমির টপ সয়েল কেটে ফেলায় ফসলি জমি হারাচ্ছে তার উর্বরা শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে ইট একটি প্রয়োজনীয় বস্তু হলেও নিয়ম না মেনে ইট তৈরির কারণে কষি জমি যেমন হ্রাস পাচ্ছে , তেমনি আবাদি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। অপর দিকে সবুজ বেস্টনি উজাড় করে গাছ কেটে ফেলার কারণে হুমকির মুখে পড়ছে সামাজিক পরিবেশ। এছাড়া ইট ভাটার মালিকরা ইটের সাইজ ছোট করে সাধারন জনগণের সাথে প্রতারনা করছে।
অনেক ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। ভাটাগুলি সম্পূর্ন বে-আইনীভাবে চলমান রয়েছে। অনেক ভাটা গড়ে উঠেছে আবাদি জমির উপর। সরকারী নীতিমালায় রয়েছে আধুনিক ইটভাটা স্থাপন করতে হবে এবং কাঠের পরিবর্তে কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে হবে। কিন্তু কোন কোন ভাটা মালিক সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরাতন টিনের চিমনি পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত কর্মকান্ড আইন থাকলেও ভাটা মালিকরা তা মানছেন না। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল এমনকি সড়কের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন সরকারী আইন লঙ্ঘন হলেও অধিকাংশ ভাটামালিক তা তোয়াক্কা করছে না। ফলে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া, ভাটার কাজে ব্যবহৃত ফিটনেছ বিহীন গাড়ির ধুলাবালিতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগব্যাধি।
সাধারন মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটা তৈরির কারণে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে তেমনি বাড়ছে কষ্ট। তারা আরও বলেন, ইটভাটার মালিকরা প্রতিবছর অইন লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেনো নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়।
মহেশপুর উপজেলা কৃর্ষি কর্মকর্তা কৃর্ষিবিদ আবু তালহা বলেন, এ সকল ইটভাটা তৈরির কারণে এই স্থানের সকল কৃষি জমিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
র‌্যাডো ইটভাটার মালিক আব্দার রহমান জানায়, তারা উপর মহলে ম্যানেজ করে ভাটা চালাচ্ছে যে কারণে পত্র পত্রিকায় লিখলেও তাদের কিছু যায় আসে না।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, পরি্েবশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে যারা ইটভাটা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.