কুমার নদ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে চাষের জমি তৈরীর কাজ চলছে

এনামুল হক সিদ্দীক কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)থেকে- 

ভেকু মেশিনের সাহায্যে শৈলকুপার হাট-ফাদিলপুর এলাকায় কুমার নদ এর পাড় কেটে চাষযোগ্য জমি তৈরী করা হচ্ছে। সোহেল রানা নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী রবিবার দিনভর ভেকু দিয়ে ওই স্থানে মাটি কেটেছেন। এই মাটি পাড়ে রেখে উচু করে সেখানে ফসল চাষের উপযোগি করছেন। জায়গাটি নদ এর হলেও চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীর দখলে। এতে একদিকে নদ এর ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জায়গা বে-দখল হয়ে হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় অবস্থিত কুমার নদ। ১২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই নদ এর ঝিনাইদহ অংশে পাড় দখল অব্যহত রয়েছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শৈলকুপা বাজারটির একটি অংশ গড়ে উঠেছে এই কুমার নদ এর জায়গা দখল করে। এছাড়া রয়েড়া, আবাইপুর, হাট-ফাদিলপুর সহ বেশ কয়েকটি বাজার এই নদ এর পাড়ে হওয়ায় সেখানেও চলছে দখল। সর্বশেষ শনিবার হাট-ফাদিলপুর বাজারের নিচে ভেকু মেশিন দিয়ে নদ থেকে মাটি কেটে পাড় বাঁধতে দেখা গেছে। এখানে চাষাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন দখলদার। 

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে হাট-ফাদিলপুর-কামান্না সড়কের কুমার নদ এর উপর থাকা সেতুর পশ্চিমে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। নদ এর তলদেশ সমতল থাকলেও সেখানে গর্ত খুড়ে সেই গর্তের মাটি পাড়ে জমানো হচ্ছে। এরপর ওই জমানো মাটি সমান করে সেখানে চাষাবাদ করা হবে। এতে নদ এর সমতল তলদেশ নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি নদ এর জায়গা দখল করা হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করে জানান, হাট-ফাদিলপুর বাজারের বাসিন্দা নেকবার আলীর পুত্র সোহেল রানা এই মাটি কাটছেন। তিনি নদ এর জায়গাটি চাষযোগ্য করে তুলছেন। এতে নদ দখল হচ্ছে বুঝতে পারলেও তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, নদ এর মধ্যে শুধু নয় বাজারের মাঝ দিয়ে যাওয়া সেতুর দুই ধারেও দখল করা হয়েছে। যেখানে পাকা ভবন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানানো হয়েছে। তিনি জানান, মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানের কথা তারা শোনেন, কিন্তু অভিযান হয় না। এই নদ দখলমুক্ত হোক এটা জরুরী বলে মন্তব্য করেন।  

এ বিষয়ে সোহেল রানা জানান, তিনি কিছুটা জায়গা চাষযোগ্য করে তুলছেন এতে নদ এর কোনো ক্ষতি হবে না। তাছাড়া খুব বেশি গর্ত করছেন না, ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গার মাটি কেটে পাড়ে দিচ্ছেন। যে মাটি পরবর্তী সময়ে পানির চাপে আবার ওই স্থানে চলে যাবে। 

শৈলকুপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রার্থ প্রতীম শীল জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। তবে দ্রুত নদ এর মাটি কাটা বন্ধ হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান।


No comments

Powered by Blogger.