ঝিনাইদহে দোকান ও শরীর ঠান্ডা রাখতে দোকানের চালে ঘাষের চাষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহের পাগলাকানাই এলাকায় ফুটপথে আরামে ফলের ব্যবসা করে যাচ্ছেন ফল ব্যবসায়ী আকুল হোসেন।চারিদিকে গরম আবহাওয়া, নিম্ন আয়ের মানুষের কোথাও শান্তি নেই। দোকানপাটে বিদ্যুৎ চলে গেলে বসা যায় না। যারা ফুটপথে আছেন তাদের কষ্টের শেষ থাকে না। এই অবস্থাতেও ঝিনাইদহের পাগলাকানাই এলাকায় ফুটপথে আরামে ফলের ব্যবসা করে যাচ্ছেন ফল ব্যবসায়ী আকুল হোসেন। দোকান ও নিজের শরীর ঠান্ডা রাখতে তিনি দোকানের চালে ঘাষের চাষ করেছেন। যা প্রচন্ড রোদের মধ্যেও তার দোকান ঠান্ডা করে রেখেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আকুল হোসেনের এই পদ্ধতি খুবই চমৎকার। গরমে তারা যখন কষ্ট পাছেন, দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন আকুল হোসেন তখনও ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তার দোকানে ক্রেতার ভীড়ও বেশি। 

আকুল হোসেন (৪২) ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের পুত্র। ৩ শতক জমির উপর সেমিপাঁকা একটি ঘরে তিনি মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। পুজি বলতে তার বাড়ি আর একটি ফলের দোকান। আকুল হোসেন জানান, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ায় ছোট থেকে তিনি হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে তিনি যাত্রীবাহি বাসে কলা বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি গাড়িতে হকারি করেছেন। এরপর নিজে একটি ভ্যানগাড়ি কিনে সেই ভ্যানে কলা বিক্রি করতেন। ১৫ বছর এভাবে ভ্যানে করে পাঁকা কলা বিক্রি করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ী দোকান বানিয়ে সেখানে ফল বিক্রি করেন। 

আকুল হোসেন জানান, সামান্য পুজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। দোকানটি তৈরী করতে তাকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। এরপর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মাল (ফল) উঠান। এই ফল বিক্রি করতে থাকেন। তার দোকানে কেনাবেচা মোটামুটি ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু রাস্তার পাশে দোকান হওয়ায় গরমে বসতে পারছিলেন না। ছোট্ট ঘরটিতে ছোট একটি ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলেও তা গরমে বসা উপযোগি ছিল না। এভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন আকুল হোসেন। 

আকুল জানান, একদিন টেলিভিশনে দেখতে পান ঘরের ছাদে গাছ লাগিয়ে ঘর ঠান্ডা করার ঘটনা। এই দেখে তার ইচ্ছা যাগে তিনিও ছোট্ট ঘরটি ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করবেন। চার বছর পূর্বে তিনি দোকানের উপরে থাকা পলিথিনে মাটি দিয়ে তার উপর ঘাষ লাগিয়ে দেন। মাত্র ৩ হাজার টাকা দিয়ে লক্ষি ঘাষ বলে পরিচিত এক ধরনের ঘাষ লাগিয়ে দেন। এই ঘাষে মাঝে মধ্যে পানি দেন, এছাড়া আর কোনো যতœ করতে হয় না। ঘাষগুলো সবুজ হয়ে আছে মাথার উপর। নিচে আরামে দোকানদারী করছেন আকুল হোসেন। তিনি জানান, বাইরে যতই গরম হোক তার দোকান সারাদিন ঠান্ডা থাকে। বর্তমানে যে গরম চলছে সেই সময়েও তিনি ওই ঘাষের নিচে বসে ব্যবসা করছেন। একবার ঘাষ লাগিয়ে দিয়েছেন এটাই বংশ বিস্তার করে তার দোকান সবুজ করে রেখেছে। মাঝে মধ্যে ঘাষগুলো ছেটে দেওয়া প্রয়োজন হয় বলে জানান। এখন তিনি ভালো ভাবে ব্যবসা করছেন। তার দোকানে এখন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার ফল রয়েছে। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাাজর টাকার ফল বিক্রি হচ্ছে। যা থেকে ১১ থেকে ১২ শত টাকা আয় হচ্ছে। এই দিয়ে তার সংসার চলছে। 

আকুল হোসেনর দোকান সম্পর্কে ওই এলাকার বাসিন্দা গুলজার হোসেন জানান, দোকানের উপর ঘাষ লাগিয়ে শুধু দোকান ঠান্ডা করেনি, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানটি পলিথিনের হলেও ঘাষের কারনে বাইরে থেকে দেখতে ভালো লাগছে। তার এই পদ্ধতি অনেকে দেখে প্রশংসা করছে। ওই দোকানের ক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, রাস্তার ধারের দোকান হলেও ঘাস লাগিয়ে দোকানদার দোকান ঠান্ডা করে রেখেছে। তাই সারাক্ষণ দোকানে থাকতে পারেন। তারাও দোকানটি সব সময় খোলা পাওয়ায় এখানেই ছুটে আসেন।  


No comments

Powered by Blogger.