ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি কর্মীর কান ধরে পদত্যাগ করেছেন, এখানে বহিরাগত প্রার্থী হলে দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেকের।
রবিউল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় দলীয় কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি এই আসনে স্থানীয় কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিরাগত কাউকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা গণসম্মুখে কানে ধরে দল ত্যাগ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এলাকার বিএনপির সক্রিয় কর্মী ফরহাদ হোসেন ও অন্যান্য নেতাকর্মী সোশ্যাল মিডিয়াতে জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ-৪ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু এবার যদি দলীয় নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে কোনো বহিরাগতকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে অসংখ্য স্থানীয় কর্মী দল ত্যাগ করবেন। এ ক্ষেত্রে আসনে বিএনপির প্রার্থী কোনো ভোটই পাবেন না বলেও দাবি করেন তারা।
আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ও জনপ্রিয়তা:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী চালু আছেন, যাদের প্রত্যেকেরই স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী -
১. হামিদুল ইসলাম হামিদ
২. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ
৩. মুর্শিদা জামান বেল্টু
ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগীরা বলছেন, "আমরা দলকে সমর্থন করি, দলের নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ দাবি হলো, এই আসনের প্রার্থী হতে হবে স্থানীয় এবং জনগণের আস্থাভাজন কোনো ব্যক্তি। বহিরাগত কাউকে চাপিয়ে দিলে আমাদের মতো হাজার হাজার কর্মী দল ছাড়বেন। এতে দলীয় প্রার্থীর ভোটের ব্যালট বাক্সই ভাঙা পড়বে।"
স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া:
কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্তরের মানুষও এই মনোনয়ন ইস্যুতে সোচ্চার। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতির চেয়ে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বই এখানে প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি স্থানীয় জনমত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা আসনের ভোটারদের ব্যাপক ক্ষোভের কারণ হবে বলে এলাকাবাসী সতর্ক করছেন।
বিএনপির প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির ভিত্তি শক্ত হলেও মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাত দলটির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরণের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দলীয় মনোবল দুর্বল করতে পারে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেননি। তবে স্থানীয় চাপের মুখে তারা কোন সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল রয়েছে।
এলাকাবাসী ও দলীয় কর্মীদের পক্ষ থেকে এখনই সতর্কবার্তা দিয়ে রাখা হয়েছে – "স্থানীয় প্রার্থীই হোক ঝিনাইদহ-৪ এর মুখ, নইলে ধানের শীষে ভোট নেই।"

No comments