তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন; ২০২৬-এর নির্বাচনী রাজনীতির নতুন সমীকরণ

 


সিফাত বিন সিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার:

​দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভাগ্যরেখা নির্ধারণের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ।
তাঁর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে ফিরছেন ডা. জুবাইদা রহমান এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, যা জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে দেশের মাটিতে পূর্ণতা দিচ্ছে। বিশেষ করে জাইমা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে, যা দলটিকে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী কাঠামো দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
​তারেক রহমানের এই আগমন বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে। দীর্ঘদিন ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করার পর সরাসরি কমান্ডে ফিরে আসায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। এর ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের যে শূন্যতা ছিল, তা দূর হবে এবং দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর ও কার্যকর হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এক শক্তিশালী চাপের পাশাপাশি সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করবে।
​২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের ভূমিকা হবে নির্ণায়ক। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ, তা তিনি মোকাবিলা করবেন তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর সশরীরে উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনবে, যা কেবল দলীয় ভোটব্যাংক নয়, বরং সাধারণ ভাসমান ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমান কতটা কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬-এর ব্যালট বিপ্লব।
​বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন গণতন্ত্র’। তারেক রহমান এখন সেই উত্তরাধিকারের মশাল বহন করছেন। জিয়াউর রহমানের উন্নয়নমুখী রাজনীতি এবং খালেদা জিয়ার ত্যাগের দীর্ঘ পথ বেয়ে তারেক রহমান এখন দলকে একটি ডিজিটাল ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নয়, বরং আইনের শাসন ও বিচারিক লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের ও দলের ওপর অর্পিত কালিমা মুছে ফেলারও এক বড় সুযোগ। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই ফিরে আসা ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের প্রভাবকে পুনরায় সুসংহত করবে।


No comments

Powered by Blogger.