শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

 


সিফাত বিন সিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার:
​প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীরা এখন থেকে প্রকাশ্যে জনসভা, পথসভা এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে পারবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং এই প্রচার-প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

​রাজপথের প্রধান দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বরাবরের মতো আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকে তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বুধবার রাতেই সিলেটে পৌঁছান এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে  বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা উদ্বোধন করেন। জনসভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণ আজ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি সবসময় আপসহীন এবং জনগণের রায় মাথায় নিয়ে তারা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়।

​এদিকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর (ঢাকা-১৫ আসন) থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার  দুপুরে এক বিশাল সুধী সমাবেশের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বা মাফিয়াতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী একটি ইনসাফ কায়েমকারী সমাজ গঠন করতে চায় যেখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থেকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রচার কাজ চালানোর নির্দেশ দেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

​জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টিও বৃহস্পতিবার  থেকে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম জোরদার করেছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তারা প্রচার কাজ চালাচ্ছে। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা মূলত সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে জনমত তৈরি করতে এবং বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এই নতুন পার্টির সক্রিয়তা নির্বাচনি ময়দানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত দলগুলো  দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্বাচনি পথসভা ও মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।

​নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি আসনে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বিধায় ভোটারদের মধ্যে বাড়তি সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম দিনের প্রচারণায় কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক নজরদারি রাখছে।




 

No comments

Powered by Blogger.