মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতী-মোঃ লুৎফর রহমান
মাধ্যমিক শিক্ষা একটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা স্তর। শিক্ষার এ স্তরটি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার এ স্তরটি সমাপ্ত করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্ম জগতে প্রবেশ করে এবং বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অগ্রসর হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতি বিরাট আকার ধারণ করেছে। এর জন্য শিক্ষক, বিদ্যালয় প্রশাসন,শিক্ষা প্রশাসন সকলের দায় রয়েছে মর্মে মনে করি ।
বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক-
কোভিড-১৯ আগমনের ফলে বিদ্যালয়সমূহ প্রায় দুই বছর (২০২০,২০২১) বন্ধ ছিল। এ সময়ে অটো পাস করা শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে এসেছে। প্রায় একই সময়ে নতুন
শিক্ষাক্রম রূপরেখা -২০২১ ঘোষণা করা হয়। এটা বিস্তরণ, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নের জন্য ২ বছর (২০২২,২০২৩)জুড়ে শিক্ষকদের এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। শিক্ষকগণ পুরোপুরি শিক্ষাক্রমের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম বোঝে ওঠার পূর্বেই দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হয়। দেখা দেয় প্রতিষ্ঠান সমূহে ছাত্র অস্থিরতা, শিক্ষকদের
কোন্দল, শিক্ষকদের বা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করাসহ নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সাল পেরিয়ে যায়। আশা করা হচ্ছিল ২০২৫ সালে শিখন ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তার মূল কারণ হলো পুনরায় ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসা। অতি অল্প সময়ে বই ছাপা ও তা বিতরণ করতে গিয়ে জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে
যায়। ফলে এ দুমাস পূর্ণাঙ্গ ক্লাস চালু করা সম্ভব হয়নি।
২৭ ফেব্রুয়ারি ক্লাস হয়ে রমজান, স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং তা ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকে। ৯ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষার সিট বসানো হয় এবং ১০
এপ্রিল থেকে ব্যবহারিকসহ ২২মে পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষা চলমান ছিল। এ সময় কেন্দ্র স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ ছিল। অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকগণও এ পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন। তাই শিক্ষক স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে অনেক বিদ্যালয় একটা বা দুটোর মধ্যে স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছে অর্থাৎ ফুল ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। ২৩ ও ২৪ মে শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল।ফলে ২৫ মে থেকে ২৯ মে তারিখ পর্যন্ত বিদ্যালয় সমূহ খোলা ছিল কিন্তু একই সময়ে ICT-র
মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার প্রচলন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের খাতা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং তা প্রধান পরীক্ষকের
নিকট পৌঁছানো এ সকল কাজে শিক্ষকরা ব্যাতিব্যস্ত থাকার কারণে ফুল ক্লাস করানো অনেক বিদ্যালয়ের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। ৩০ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয় সমূহ ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে (সাপ্তাহিক ছুটিসহ) বন্ধ। ২২ জুন বিদ্যালয়সমূহ খোলা হয় এবং ২৩ জুন অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার সিট বসানো হয়। ২২-২৩ জুন পরীক্ষার অতি নিকট বিধায় ছাত্র উপস্থিতি কম ছিল । ফলে এ দুদিন রোল কল সর্বস্ব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন থেকে ১৩ই জুলাই পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এমন একটি বাস্তবতায় কোন স্বনামধন্য বা খ্যাতিমান স্কুলের পক্ষে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বে 10দিন পূর্ণাঙ্গ ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিখন ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা যে শুধু বাংলা, ইংরেজি, গণিত বা বিজ্ঞানের মত বিষয়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা নয় বরং সকল বিষয়ের জন্যই শিখন ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা যে কেবল এ বছরে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা নয়, বিগত কয়েক বছরের হিসেব-নিকেশ বা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে শিখন ঘাটতির হাল হকিকত বুঝতে পারা যাবে । আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাবর্ষ হল পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬৫ দিন। এরমধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র, শনি দুদিন করে) =৫২×২=১০৪ দিন
অনুমোদিত ছুটি ----------- = ৮৫দিন (2025 সালে ৭৬ দিন)
এসএসসি পরীক্ষা ---------- = ২৭ (কর্ম দিবস) (ছুটি বাদে ব্যবহারিক পরীক্ষা সহ) অর্ধ বার্ষিক, প্রাকনির্বাচনী, নির্বাচনী এবং বার্ষিক পরীক্ষায় মোট সময় ৪৮ দিন সর্বমোট ১০৪+৮৫+২৭+৪৮=২৬৪দিন
এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বিদ্যালয়গুলোতে উক্ত ২৬৪ দিন কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় না (ব্যতিক্রম থাকতে পারে)। তবে অন্যান্য স্কুলগুলোতে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে আংশিক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। অবশিষ্ট কর্ম দিবসের সংখ্যা =৩৬৫-২৬৪=১০১দিন
উক্ত ১০১দিন যে পূর্ণাঙ্গ ক্লাস হয় বা এর মধ্যে ছুটি থাকে না এমনটি নয়। এর মধ্যে বিদ্যালয় যে সকল দিবস সম্পূর্ণ ক্লাস বন্ধ রেখে পরিচালনা করে তার মধ্যে অন্যতম হল - পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস, শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ দিবস, ছাত্রদের পিকনিক , এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর, এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বার্ষিক মিলাদ মাহফিল। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন দুর্যোগে (যেমন অতিবৃষ্টি বা Rainy Day, অতি খরা, অতি গরম, অতি শীত, কালবৈশাখী ঝড়, আশ্বিনা ঝড় ইত্যাদি) অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধ।এ সকল কারণে বছরে অন্তত ১0 দিন বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
আংশিকভাবে যে সমস্ত দিবসে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয় তা হল- বেসরকারি স্কুলে সময়মত ছাত্র ভর্তি না করতে পারায় জানুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ, সময়মত বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক না পাওয়া, শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া উপলক্ষে দু থেকেতিনদিনএবংগ্রীষ্মকালীন ক্রীড়ার জন্য দুই থেকে তিন দিন , বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ার হিট দুই থেকে তিন দিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের হিট দুই থেকে তিন দিন, বিভিন্ন দিবসের প্রস্তুতি চার থেকে পাঁচ দিন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সিট
বসানো, পরীক্ষার পূর্বে এক সপ্তাহ অর্ধ ক্লাস এবং পরীক্ষার পরে অন্তত এক সপ্তাহ অর্ধ ক্লাস(ব্যতিক্রম থাকতে পারে) । সব মিলিয়ে অন্তত ৬০ থেকে ৭০দিন অর্ধ ক্লাস হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতির জন্য শিক্ষকরাও কম দায়ী নন। যেমন প্রত্যেক শিক্ষকের বাৎসরিক ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি রয়েছে। শিক্ষকরা বছরে কোন না কোন ট্রেনিংয়ের পিছনে পাঁচ থেকে দশ দিন সংশ্লিষ্ট থাকেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক বা প্রশ্ন সেটার হিসেবে সংশ্লিষ্ট থাকেন। কোন কোন শিক্ষক রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, কোন শিক্ষক
স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কোন কোন শিক্ষক অন্য পেশা যেমন পশু
চিকিৎসা, পল্লী চিকিৎসা, কোচিং, মসজিদের ইমাম,খতিব, সাংবাদিকতাসহ কৃষি কর্মের সাথে সংযুক্ত থাকেন। তারা ক্ষেত্র বিশেষে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সভাপতি কে ম্যানেজ করে চলেন।
বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক-
কোভিড-১৯ আগমনের ফলে বিদ্যালয়সমূহ প্রায় দুই বছর (২০২০,২০২১) বন্ধ ছিল। এ সময়ে অটো পাস করা শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে এসেছে। প্রায় একই সময়ে নতুন
শিক্ষাক্রম রূপরেখা -২০২১ ঘোষণা করা হয়। এটা বিস্তরণ, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নের জন্য ২ বছর (২০২২,২০২৩)জুড়ে শিক্ষকদের এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। শিক্ষকগণ পুরোপুরি শিক্ষাক্রমের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম বোঝে ওঠার পূর্বেই দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হয়। দেখা দেয় প্রতিষ্ঠান সমূহে ছাত্র অস্থিরতা, শিক্ষকদের
কোন্দল, শিক্ষকদের বা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করাসহ নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সাল পেরিয়ে যায়। আশা করা হচ্ছিল ২০২৫ সালে শিখন ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তার মূল কারণ হলো পুনরায় ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসা। অতি অল্প সময়ে বই ছাপা ও তা বিতরণ করতে গিয়ে জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে
যায়। ফলে এ দুমাস পূর্ণাঙ্গ ক্লাস চালু করা সম্ভব হয়নি।
২৭ ফেব্রুয়ারি ক্লাস হয়ে রমজান, স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং তা ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকে। ৯ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষার সিট বসানো হয় এবং ১০
এপ্রিল থেকে ব্যবহারিকসহ ২২মে পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষা চলমান ছিল। এ সময় কেন্দ্র স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ ছিল। অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকগণও এ পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন। তাই শিক্ষক স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে অনেক বিদ্যালয় একটা বা দুটোর মধ্যে স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছে অর্থাৎ ফুল ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। ২৩ ও ২৪ মে শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল।ফলে ২৫ মে থেকে ২৯ মে তারিখ পর্যন্ত বিদ্যালয় সমূহ খোলা ছিল কিন্তু একই সময়ে ICT-র
মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার প্রচলন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের খাতা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং তা প্রধান পরীক্ষকের
নিকট পৌঁছানো এ সকল কাজে শিক্ষকরা ব্যাতিব্যস্ত থাকার কারণে ফুল ক্লাস করানো অনেক বিদ্যালয়ের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। ৩০ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয় সমূহ ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে (সাপ্তাহিক ছুটিসহ) বন্ধ। ২২ জুন বিদ্যালয়সমূহ খোলা হয় এবং ২৩ জুন অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার সিট বসানো হয়। ২২-২৩ জুন পরীক্ষার অতি নিকট বিধায় ছাত্র উপস্থিতি কম ছিল । ফলে এ দুদিন রোল কল সর্বস্ব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন থেকে ১৩ই জুলাই পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এমন একটি বাস্তবতায় কোন স্বনামধন্য বা খ্যাতিমান স্কুলের পক্ষে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বে 10দিন পূর্ণাঙ্গ ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিখন ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা যে শুধু বাংলা, ইংরেজি, গণিত বা বিজ্ঞানের মত বিষয়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা নয় বরং সকল বিষয়ের জন্যই শিখন ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা যে কেবল এ বছরে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা নয়, বিগত কয়েক বছরের হিসেব-নিকেশ বা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে শিখন ঘাটতির হাল হকিকত বুঝতে পারা যাবে । আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাবর্ষ হল পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬৫ দিন। এরমধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র, শনি দুদিন করে) =৫২×২=১০৪ দিন
অনুমোদিত ছুটি ----------- = ৮৫দিন (2025 সালে ৭৬ দিন)
এসএসসি পরীক্ষা ---------- = ২৭ (কর্ম দিবস) (ছুটি বাদে ব্যবহারিক পরীক্ষা সহ) অর্ধ বার্ষিক, প্রাকনির্বাচনী, নির্বাচনী এবং বার্ষিক পরীক্ষায় মোট সময় ৪৮ দিন সর্বমোট ১০৪+৮৫+২৭+৪৮=২৬৪দিন
এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বিদ্যালয়গুলোতে উক্ত ২৬৪ দিন কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় না (ব্যতিক্রম থাকতে পারে)। তবে অন্যান্য স্কুলগুলোতে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে আংশিক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। অবশিষ্ট কর্ম দিবসের সংখ্যা =৩৬৫-২৬৪=১০১দিন
উক্ত ১০১দিন যে পূর্ণাঙ্গ ক্লাস হয় বা এর মধ্যে ছুটি থাকে না এমনটি নয়। এর মধ্যে বিদ্যালয় যে সকল দিবস সম্পূর্ণ ক্লাস বন্ধ রেখে পরিচালনা করে তার মধ্যে অন্যতম হল - পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস, শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ দিবস, ছাত্রদের পিকনিক , এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর, এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বার্ষিক মিলাদ মাহফিল। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন দুর্যোগে (যেমন অতিবৃষ্টি বা Rainy Day, অতি খরা, অতি গরম, অতি শীত, কালবৈশাখী ঝড়, আশ্বিনা ঝড় ইত্যাদি) অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধ।এ সকল কারণে বছরে অন্তত ১0 দিন বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
আংশিকভাবে যে সমস্ত দিবসে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয় তা হল- বেসরকারি স্কুলে সময়মত ছাত্র ভর্তি না করতে পারায় জানুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ, সময়মত বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক না পাওয়া, শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া উপলক্ষে দু থেকেতিনদিনএবংগ্রীষ্মকালীন ক্রীড়ার জন্য দুই থেকে তিন দিন , বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ার হিট দুই থেকে তিন দিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের হিট দুই থেকে তিন দিন, বিভিন্ন দিবসের প্রস্তুতি চার থেকে পাঁচ দিন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সিট
বসানো, পরীক্ষার পূর্বে এক সপ্তাহ অর্ধ ক্লাস এবং পরীক্ষার পরে অন্তত এক সপ্তাহ অর্ধ ক্লাস(ব্যতিক্রম থাকতে পারে) । সব মিলিয়ে অন্তত ৬০ থেকে ৭০দিন অর্ধ ক্লাস হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতির জন্য শিক্ষকরাও কম দায়ী নন। যেমন প্রত্যেক শিক্ষকের বাৎসরিক ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি রয়েছে। শিক্ষকরা বছরে কোন না কোন ট্রেনিংয়ের পিছনে পাঁচ থেকে দশ দিন সংশ্লিষ্ট থাকেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক বা প্রশ্ন সেটার হিসেবে সংশ্লিষ্ট থাকেন। কোন কোন শিক্ষক রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, কোন শিক্ষক
স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কোন কোন শিক্ষক অন্য পেশা যেমন পশু
চিকিৎসা, পল্লী চিকিৎসা, কোচিং, মসজিদের ইমাম,খতিব, সাংবাদিকতাসহ কৃষি কর্মের সাথে সংযুক্ত থাকেন। তারা ক্ষেত্র বিশেষে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সভাপতি কে ম্যানেজ করে চলেন।
বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক অসন্তুষ্টি বিরাজমান। তাদের মধ্যে নানা রকমের সংগঠন গড়ে উঠেছে। যেমন আইসিটি শিক্ষকদের সংগঠন, সহকারী লাইব্রেরিয়ানদের সংগঠন, কৃষি শিক্ষকদের
সংগঠন, আম্বাসেডরদের সংগঠন, সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন, প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন, শিক্ষক ফোরাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট, BTA এ ধরনের নানা সংগঠন যা কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামেন, অন্যরা তা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে শিখন শেখানো কার্যক্রম প্রায় ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়।
শিখন ঘাটতি সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও কম নয়। তারা অনেকেই দরিদ্র ঘরের সন্তান বিধায় নিয়মিত ক্লাসে আসে না। অনেকে পিতা-মাতার পারিবারিক কাজে সহায়তা করে থাকে। অনেকে
শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করে।অনেকেই আবার কিশোর গ্যাং এর সাথে যুক্ত এবং ধূমপান, মাদক বা মোবাইল আসক্ত। অনেকেই প্রাইভেট- কোচিং এর সাথে যুক্ত। এ সকল
কার্যকলাপ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বিমুখী করে তুলছে এবং নিজেদের অজান্তেই শিখন ঘাটতি সৃষ্টি করছে।
সংগঠন, আম্বাসেডরদের সংগঠন, সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন, প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন, শিক্ষক ফোরাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট, BTA এ ধরনের নানা সংগঠন যা কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামেন, অন্যরা তা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে শিখন শেখানো কার্যক্রম প্রায় ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়।
শিখন ঘাটতি সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও কম নয়। তারা অনেকেই দরিদ্র ঘরের সন্তান বিধায় নিয়মিত ক্লাসে আসে না। অনেকে পিতা-মাতার পারিবারিক কাজে সহায়তা করে থাকে। অনেকে
শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করে।অনেকেই আবার কিশোর গ্যাং এর সাথে যুক্ত এবং ধূমপান, মাদক বা মোবাইল আসক্ত। অনেকেই প্রাইভেট- কোচিং এর সাথে যুক্ত। এ সকল
কার্যকলাপ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বিমুখী করে তুলছে এবং নিজেদের অজান্তেই শিখন ঘাটতি সৃষ্টি করছে।
মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতি থেকে উত্তরণের উপায়ঃ
মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতি (learning gap) থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট
কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
১.মাধ্যমিকে শিক্ষাবর্ষ পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পরিপূর্ণভাবে পালন করতে হবে। শিক্ষার্থী ভর্তি সরকারি - বেসরকারি নির্বিশেষে ৩১শে ডিসেম্বর এর মধ্যে শেষ করতে হবে।
২.পহেলা জানুয়ারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কোনক্রমেই যেন সরকারি বিনামূল্যের বই প্রাপ্তিতে বিলম্ব না ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের
বা অভিভাবকদের টেনশনের মধ্যে পড়তে না হয়।
৩.বিদ্যালয়ের কো- কারিকুলার এক্টিভিটি (Co-caricular activity) যেমন-বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান,
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, নবীন বরণ, ছাত্রবিদায় বা ছাত্রদের পিকনিকসহ জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অবশ্যই ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে।
৪.ফেব্রুয়ারি বা মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়সমূহ ৮.০০-২.০০ বা Morning School করতে হবে। যাতে করে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়েই ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়মুখী হতে পারেন।
৫.শিক্ষকদের যত রকমের প্রশিক্ষণ আছে তা বড় বড় ছুটি যেমন রমজান ভ্যাকেশন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বা শীতকালীন অবকাশে ডিজাইন করতে হবে। কোনক্রমেই একদিনও যেন ছুটির বাহিরে
বিদ্যালয় চলাকালীন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৬.এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষাসমূহ গ্রীষ্মকালীন অবকাশে যুগপৎ একদিন এসএসসি এবং পরের দিন এইচএসসি এভাবে ডিজাইন করতে হবে, যাতে করে পরীক্ষার সময় শিক্ষক
বা শিক্ষার্থীদের শিখন শেখানো কার্যক্রম নিয়ে কোন রকমের চিন্তা করতে না হয়।
৭.বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের অনেক শিক্ষার্থী বাবা মাকে সহায়তা অথবা নিজের শিক্ষার জন্য বা পারিবারিক আর্থিক আয়ের জন্য কৃষি ক্ষেত্রে শ্রম দিয়ে থাকে। এ কথাটি ভাবনায় রেখে
গ্রীষ্মকালীন ছুটি এমন ভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে কৃষকের ধান কাটা অথবা চৈতালি ফসল উত্তোলন ইত্যাদি গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেই পড়ে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার ক্ষতি না
করে কৃষি কাজে বাবা-মা বা অন্যদের সাহায্য করতে পারে।
৮.শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ন্যূনতম শতকরা ৭৫ ভাগ করতে হবে।
৯. শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কোনক্রমে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ না করা।
১০.দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোটায়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ক্লাসে উপস্থিতি ৭৫ ভাগ হলেই কেবল নির্বাচনী পরীক্ষায়
অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ফরম পূরণের সুযোগ দিতে হবে। আভ্যন্তরী পরীক্ষা দুটি অর্ধ- বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী ১২ দিন এবং বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা ১২ দিন সর্বমোট ২৪ দিন করতে হবে। যা বর্তমানে ৪৮ দিন রয়েছে।
১১.দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ড্রেসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
১২.বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত কোন শিক্ষার্থী ৮.০০--২.০০ টা বিদ্যালয়ের বাহিরে অবস্থান করতে পারবেনা এবং আইনের দৃষ্টিতে এটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
১৩. ৮.০০--২.০০ টা কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না এমন আইন প্রনয়ন করতে হবে।
১৪.শিক্ষকদের জন্য কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা যুগোপযোগী করতে হবে।
১৫. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি মেসেজ সিস্টেমের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানাতে হবে।
১৬.শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অ্যাপস ভিত্তিক শিখন শেখানো কার্যক্রম বা পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং অ্যাপসের যে সকল সমস্যা রয়েছে তা অতি দ্রুত সমাধান করতে
হবে।
১৭. শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা এবং শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে গৃহীত অর্থ কিভাবে ব্যয় হবে তা যুগোপযোগী করে সকল শিক্ষককে এর ওপর অন্তত দুদিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে
করে এ খাতে কোন রকমের অনিয়ম বা দুর্নীতি সংঘটিত না হয়।
১৮.শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বা বাল্য বিয়ে রোধ করার জন্য বৃত্তি বা উপবৃত্তি এর সংখ্যা এবং আর্থিক মূল্যমান বৃদ্ধি করতে হবে।
১৯. শিক্ষকদের অবশ্যই রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তাদের পেশাগত সংগঠন করার অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা, দ্বৈত পেশা (যেমন- পশু চিকিৎসা, পল্লী চিকিৎসা ,সাংবাদিকতা, কৃষি বা
ব্যবসা বা মসজিদের ইমাম, খতিব বা নিকাহ্ রেজিস্টার, গ্রাম্য মেম্বার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সংসদ নির্বাচনেপ্রার্থিতা ইত্যাদি) বিষয়ে পরিষ্কার নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে।
২০.দেশের বা রাষ্ট্রের আর্থিক সঙ্গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি এবং আর্থিক সন্তুষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষকের ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি ও পুরস্কার
এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতি (learning gap) থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট
কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
১.মাধ্যমিকে শিক্ষাবর্ষ পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পরিপূর্ণভাবে পালন করতে হবে। শিক্ষার্থী ভর্তি সরকারি - বেসরকারি নির্বিশেষে ৩১শে ডিসেম্বর এর মধ্যে শেষ করতে হবে।
২.পহেলা জানুয়ারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কোনক্রমেই যেন সরকারি বিনামূল্যের বই প্রাপ্তিতে বিলম্ব না ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের
বা অভিভাবকদের টেনশনের মধ্যে পড়তে না হয়।
৩.বিদ্যালয়ের কো- কারিকুলার এক্টিভিটি (Co-caricular activity) যেমন-বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান,
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, নবীন বরণ, ছাত্রবিদায় বা ছাত্রদের পিকনিকসহ জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অবশ্যই ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে।
৪.ফেব্রুয়ারি বা মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়সমূহ ৮.০০-২.০০ বা Morning School করতে হবে। যাতে করে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়েই ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়মুখী হতে পারেন।
৫.শিক্ষকদের যত রকমের প্রশিক্ষণ আছে তা বড় বড় ছুটি যেমন রমজান ভ্যাকেশন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বা শীতকালীন অবকাশে ডিজাইন করতে হবে। কোনক্রমেই একদিনও যেন ছুটির বাহিরে
বিদ্যালয় চলাকালীন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৬.এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষাসমূহ গ্রীষ্মকালীন অবকাশে যুগপৎ একদিন এসএসসি এবং পরের দিন এইচএসসি এভাবে ডিজাইন করতে হবে, যাতে করে পরীক্ষার সময় শিক্ষক
বা শিক্ষার্থীদের শিখন শেখানো কার্যক্রম নিয়ে কোন রকমের চিন্তা করতে না হয়।
৭.বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের অনেক শিক্ষার্থী বাবা মাকে সহায়তা অথবা নিজের শিক্ষার জন্য বা পারিবারিক আর্থিক আয়ের জন্য কৃষি ক্ষেত্রে শ্রম দিয়ে থাকে। এ কথাটি ভাবনায় রেখে
গ্রীষ্মকালীন ছুটি এমন ভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে কৃষকের ধান কাটা অথবা চৈতালি ফসল উত্তোলন ইত্যাদি গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেই পড়ে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার ক্ষতি না
করে কৃষি কাজে বাবা-মা বা অন্যদের সাহায্য করতে পারে।
৮.শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ন্যূনতম শতকরা ৭৫ ভাগ করতে হবে।
৯. শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কোনক্রমে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ না করা।
১০.দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোটায়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ক্লাসে উপস্থিতি ৭৫ ভাগ হলেই কেবল নির্বাচনী পরীক্ষায়
অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ফরম পূরণের সুযোগ দিতে হবে। আভ্যন্তরী পরীক্ষা দুটি অর্ধ- বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী ১২ দিন এবং বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা ১২ দিন সর্বমোট ২৪ দিন করতে হবে। যা বর্তমানে ৪৮ দিন রয়েছে।
১১.দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ড্রেসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
১২.বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত কোন শিক্ষার্থী ৮.০০--২.০০ টা বিদ্যালয়ের বাহিরে অবস্থান করতে পারবেনা এবং আইনের দৃষ্টিতে এটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
১৩. ৮.০০--২.০০ টা কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না এমন আইন প্রনয়ন করতে হবে।
১৪.শিক্ষকদের জন্য কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা যুগোপযোগী করতে হবে।
১৫. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি মেসেজ সিস্টেমের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানাতে হবে।
১৬.শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অ্যাপস ভিত্তিক শিখন শেখানো কার্যক্রম বা পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং অ্যাপসের যে সকল সমস্যা রয়েছে তা অতি দ্রুত সমাধান করতে
হবে।
১৭. শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা এবং শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে গৃহীত অর্থ কিভাবে ব্যয় হবে তা যুগোপযোগী করে সকল শিক্ষককে এর ওপর অন্তত দুদিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে
করে এ খাতে কোন রকমের অনিয়ম বা দুর্নীতি সংঘটিত না হয়।
১৮.শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বা বাল্য বিয়ে রোধ করার জন্য বৃত্তি বা উপবৃত্তি এর সংখ্যা এবং আর্থিক মূল্যমান বৃদ্ধি করতে হবে।
১৯. শিক্ষকদের অবশ্যই রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তাদের পেশাগত সংগঠন করার অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা, দ্বৈত পেশা (যেমন- পশু চিকিৎসা, পল্লী চিকিৎসা ,সাংবাদিকতা, কৃষি বা
ব্যবসা বা মসজিদের ইমাম, খতিব বা নিকাহ্ রেজিস্টার, গ্রাম্য মেম্বার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সংসদ নির্বাচনেপ্রার্থিতা ইত্যাদি) বিষয়ে পরিষ্কার নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে।
২০.দেশের বা রাষ্ট্রের আর্থিক সঙ্গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি এবং আর্থিক সন্তুষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষকের ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি ও পুরস্কার
এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে আমাদের দেশে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এ দু মাস দশটা থেকে শ্রেণী কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম পক্ষে বার্ষিক ও নির্বাচনী
পরীক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয় পক্ষ শীতকালীন ছুটি ও বিভিন্ন শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। জানুয়ারি মাস জুড়ে কো- কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি পরিচালনা করা যেতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নিতে পারলে আমার বিশ্বাস মাধ্যমিক শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং
শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির লাঘব ঘটবে।
পরীক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয় পক্ষ শীতকালীন ছুটি ও বিভিন্ন শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। জানুয়ারি মাস জুড়ে কো- কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি পরিচালনা করা যেতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নিতে পারলে আমার বিশ্বাস মাধ্যমিক শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং
শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির লাঘব ঘটবে।

No comments