ঝিনাইদহে এসিয়া এনজিও’র অনুকূলে ৪৭৩ জনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু উদ্বেগ বিএনপি প্রার্থীর

 


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে একটি অখ্যাত ও ভুঁইফোড় এনজিওকে অস্বাভাবিক হারে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও কার্ড ইস্যুর ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ায় অবস্থিত এসোসিয়েশন ফর সোসিও ইকোনোমিক অ্যাডভান্সমেন্ট (এসিয়া) নামের একটি এনজিওকে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মোট ৪৭৩ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় অচেনা এই এনজিওটি এর আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা না রাখলেও একযোগে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ-১ আসনে ১২৪ জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে ২১৫ জন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৫৪ জন ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৮০ জনকে পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি অখ্যাত এনজিও’র ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে এমন একটি সংগঠনের এত বড় অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ নাকি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে সে প্রশ্নও তুলেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি উপ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহম্মেদ বাপ্পি। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যবেক্ষকের পরিচয়ে মাঠে অবস্থান করলে অনেক ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশে প্রভাব পড়তে পারে।
এই ঘটনায় ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি প্রায় অজানা এনজিওকে চারটি সংসদীয় আসনে শত শত পর্যবেক্ষক দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি আছে, তা স্পষ্ট নয়। এতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে। বুধবার রাতেই তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পর্যবেক্ষক হলেও সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রকৃত পরিচয় যাচাই ছাড়া এভাবে কার্ড ইস্যু হলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন দিয়েছে। এ কারণে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকের নামে কোন ব্যাক্তির রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে অভিযোগ প্রদান করা হলে ইস্যুকৃত কার্ড বাতিল করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.