ব্যাস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা

 

বাবুল আক্তার স্ট রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ব্যস্ততম সময় পার করছেন জেলার ফুলচাষিরা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে সারা দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুল পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাত করার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুলচাষিরা। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা,চন্দ্রমল্লিকা, গøাডিওলাসসহ নানা জাতের ফুল সংগ্রহের কাজ চলে সারাদিন। আর এসব ফুল উপজেলার গান্নাবাজার, বালিয়াডাঙ্গা,মহেশপুর উপজেলার নেপা বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই ফুলগুলো হাত বদলে পৌঁছে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ ৬ উপজেলায় ৩৯৮ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুলচাষিরা বলছেন দিবস বিবেচেনায় বিভিন্ন সময় ফুলের দাম কম বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ দিবসকে ঘিরে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে ফুলের বাড়তি যতœ নেওয়া হয়। চলতি বছর ফেব্রæয়ারি মাস দেশের ফুলের বাজারের সবচেয়ে বড় মৌসুম। বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে এবার ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটা যোগ হয়েছে। এ কারণে ঝিনাইদহের চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝিনাইদহের মাঠ জুড়ে নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। চারদিকে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গø্যাডিওলা আর জারবেরার মনোমুগ্ধকর গন্ধ ছড়িয়ে আছে। সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা তুলে থাকা ফুলগুলো যেন সৌন্দর্যের মেতে উঠেছে। চাষিরা বলছেন,এবার ফেবব্রæয়ারিতে বিভিন্ন উৎসব থাকায় আশা করা যাচ্ছে দাম ভালো থাকবে। তবে দাম ভালো মিললে গত বছরের মতো এবারও লাভবান হওয়া যাবে বলে জানান চাষীরা।

ইতিমধ্যে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস পার হয়ে গেছে। আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে বাজার ধরার লক্ষ্য তাদের। দাম ভালো পেলে গত বছরের মতো এবারও লাভের মুখ দেখবেন এমন প্রত্যাশা চাষিদের। ফুল চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি বছর বসন্ত, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সঠিক সময়ে যদি ফুল তুলে বাজার ধরতে পারি তাহলে এবার ভালো দাম পাব বলে আমি আশা করছি। 

ঝিনাইদহের ফুলনগরী হিসাবে ক্ষ্যাত কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, ফেব্রæয়ারি মাসে তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা লক্ষ লক্ষ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।  বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে গাঁদা ফুলের ঝোপা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৩৯৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের আবাদ করা হয়েছে নানা জাতের ফুলের। 

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ফুল চাষ ও সংরক্ষণে চাষীদের প্রযুক্তিগত নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




No comments

Powered by Blogger.