ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকর্মী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার-৭


রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭জনকে আটকের পর পেল্ট্রোল পাম্প ভাংচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল। 

জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় আ’লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারিদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।

এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষনিত ভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারিকে গ্রেফতার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আ’লীগে নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প ভাংচুরের চেষ্টা চালায়, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। ঘটনার দিন রাত সোয়া তিনটার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুইটি ও জে-লাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেল্ট্রোল পাম্প ভাংচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের সনাক্ত করা হয়।   

এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক। তিনি বলেন, পেল্ট্রোল পাম্প ভাংচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছে। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়। তিনি বলেন, হত্যার চেয়ে যদি ভাংচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয় তবে সেটা হবে দুঃখজনক ঘটনা।

No comments

Powered by Blogger.