কালীগঞ্জে তোতা মিলে প্রস্তুত হচ্ছে ভেজাল হলুদ, প্রকাশ্যে চলছে প্রতারণা

 



রবিউল ইসলাম,স্টাফ  রিপোর্টার :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবনগরে সাইনবোর্ড বিহীন তোতা মিয়া’র মিলে হলুদ গুঁড়া তৈরির মিলটিতে  দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল মেশানোর অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই মিলটি অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে ভেজাল হলুদ প্রস্তুতের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটিতে শুধু শুকনো হলুদ গুঁড়া করা হয় না, বরং এর সঙ্গে মেশানো হয় বুটের ডাল, আতপ চালের গুঁড়া এবং কৃত্রিম রং। এসব কাজ গোপনে সম্পন্ন করতে মিলের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় দিনে ও অনেক সময় রাতেও ভেজাল মেশানোর কার্যক্রম চালানো হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে এই তৎপরতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলের ভেতরে বুট ও আতপ চালের গুঁড়া মিশ্রিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। মিলের পেছনে আতপ চাল ও খুদের বস্তা স্তুপ করে রাখা ছিল, যা ভেজাল প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসেবে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও জোরালো করে।
এ বিষয়ে মিলের স্বত্বাধিকারী তোতা মিয়া ভেজাল মেশানোর বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, শুকনা হলুদ মেশিনে ভাঙালে ওজন কমে যায়। তাই পার্টিরা কিছু চালের গুঁড়া মিশিয়ে দিতে বলে, সে অনুযায়ী দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “কালীগঞ্জে শুধু আমার মিলই নয়, অন্য মিলগুলোতেও একই ধরনের কাজ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই ভেজাল কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নানা উপায়ে বিষয়টি ম্যানেজ করে আসছেন।

এদিকে, কালীগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর কবির জানান, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, এই মিল থেকে উৎপাদিত ভেজাল হলুদ স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাক ও পিকআপে করে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

)

No comments

Powered by Blogger.