ঝিনাইদহে কৌশলী প্রতারণায় নিঃস্ব গৃহবধূ, পুলিশের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: 
ঝিনাইদহ সদর এলাকায় কেক তৈরির উপকরণ বিক্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূর কাছ থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে শহরের কেসি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ আফরোজা পারভীন ইভা (৪০), শৈলকুপা উপজেলার বৃত্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে মেয়ের স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি আপু বলে ডেকে তাকে থামান। কিছুক্ষণ পর আরও দুইজন সেখানে এসে নিজেদের মধ্যে কেক তৈরির উপকরণ ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ইভাকে সাক্ষী হিসেবে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে অনুরোধ করেন এবং কৌশলে তাকে কথোপকথনের মধ্যে জড়িয়ে ফেলেন।
প্রথম ব্যক্তি নিজেকে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জানান, তার কাছে নগদ অর্থ না থাকায় কেক তৈরির উপকরণ বিক্রি করে ঢাকায় ফেরার খরচ জোগাড় করতে চান। দ্বিতীয় ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এবং তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে মুন্সি মার্কেটের ‘লিজা’ নামের কেকের দোকান মালিকের ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি মোবাইল ফোনে কথিত দোকান মালিকের সঙ্গেও কথা বলানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারকরা দাবি করে, উপকরণের প্যাকেটটি দোকানে নিয়ে গেলে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে প্রলোভন দেখিয়ে তার স্বর্ণালংকার জামানত হিসেবে রাখতে বলে এবং বিনিময়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
সরল বিশ্বাসে ইভা তার পরিহিত স্বর্ণালংকার, একটি চেইন, দুটি বালা ও একটি কণ্ঠচি, তাদের হাতে তুলে দেন। যার মোট আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এরপর প্রতারকরা একটি প্যাকেট দিয়ে তাকে মুন্সি মার্কেটের ‘লিজা’ নামের দোকানে পাঠায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, দোকান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানে না এবং ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে অভিযুক্তদের আর খুঁজে পাননি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রতারকদের শনাক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে ঝিনাইদহ সদর থানার 
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিনের ০১৩২০১৪৪১৭৮ মুঠো ফোনে ফোন দেয়া হলেও ফোনটিতে কল ঢুকানো সম্ভব হয়নি। 

No comments

Powered by Blogger.