গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় কলেজ শিক্ষকের মাথা ফাটাল ছাত্রদল নেতা, থানায় অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহে গাছ কাটতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কলেজ শিক্ষককে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমেন সহ একদল যুবকের উপর।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (দুপুর ২টার দিকে) সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। তিনি জানান সমিনুজ্জামান সমেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সহ একদল যুবক তাকে মারধর করেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঝিনাইদহ শহরের বেপারীপাড়ার সমেন (জেলা ছাত্রদলের সভাপতি), ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের মুজিবুর মণ্ডলের ছেলে আনারুল, মৃত বাদলের ছেলে মিঠু, মোতালেব মণ্ডলের ছেলে সজীব, কোদালিয়া গ্রামের নয়ন হাওলাদার, আলামিন, আব্দুল্লাহসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছোট কামারকুন্ডু গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তার আত্মীয়দের সম্পত্তি সংক্রান্ত গাছ কাটতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষক মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষক মনোয়ার হোসেন বলেন, আমার এক আত্মীয়ের জমিজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শনিবার দেখি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেন লোকজন নিয়ে এসে জমির গাছ কেটে নিচ্ছে। আমি তাদের বলি, গাছ না কেটে বসে মীমাংসা করতে। এ সময় সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। কিন্তু তারা আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারীকে মারধর শুরু করে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জমির মালিক মো. দাউদ হোসেন বলেন, আমাদের ১৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈয়েব আলীর ছেলে আলালের সঙ্গে বিরোধ চলছে। আদালতে মামলা করে রায় আমার পক্ষে পেয়েছি। কিন্তু বর্তমানে তারা ছাত্রদল নেতা সমেনকে সঙ্গে নিয়ে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সমেন লোকজন নিয়ে এসে জমির গাছ কাটতে শুরু করে। বাধা দিলে বাড়ির নারীদের মারধর করে এবং শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে ওসি এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। বর্তমানে আমরা আতঙ্কে আছি।

No comments