বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে কৃষকের ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামে কৃষকের পটল ও কলা গাছ কেটে নষ্ট করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজিবি সদস্য মো. ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলমগীর হোসেন ও অভিযুক্ত বিজিবি সদস্যের নিজের বাবা মো. মোতালেব হোসেন ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ইকরামুল হকের পরিবার থেকে ২৩ শতক জমি দুই লাখ টাকায় বন্ধক নেন কৃষক আলমগীর হোসেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন এবং সেখানে পটলের আবাদ করেন। ৯ মে দুপুরে তিনি অন্য কৃষকদের মাধ্যমে জানতে পারেন বিজিবি সদস্য ইকরামুল হক ও তার স্ত্রী তার পটলের মাচায় থাকা গাছ কেটে দিচ্ছেন। এসময় প্রতিবাদ করলে তাকে ধারালো রাম দা দিয়ে প্রাণণাশের হুমকি দেন। জমি না ছাড়লে তাকে খুন করার হুমকি দেন।
মোতালেব হোসেন বলেন, আমার ৪ ছেলে ও এক মেয়ে। আমার বাবার সাড়ে ১০ একর জমি ৩ ভাগে ভাগ করে আমাদের দুই ভাইয়ের নামে দুই ভাগ দেন এক ভাগ তার নিজের নামে রাখেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাবার ভাগের জমি বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু বাবার বিক্রি করা জমি আমার বড় ছেলে ইকরামুল হক ২০১৭ সালে গোপনে আমার বাবার কাছ থেকে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এসব জমি দখল নিতে না পেরে সে আমার ভাগের জমি তার নামের বলে দাবি করে। আমি আলমগীর হোসেনের কাছে বন্দক দেওয়া জমিতে থাকা পটলগাছ কেটে দিয়েছে এবং আমার আরেকটি জমিতে থাকা কলা গাছের চারা কেটে দিয়েছে। আমার আরও সন্তান রয়েছে। আমার জমি সবাই পাবে। কিন্তু ইকরামুল বিজিবির চাকরির প্রভাব দেখিয়ে আমার বাবার বিক্রি করা জমি ক্রয় সূত্রে মালিকের দখলে থাকায় আমার নামের জমি দখল করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, ইকরামুল ইসলাম বিজিবির সদস্য। ছুটিতে বাড়িতে এসে তিনি হাতে রামদা নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. শিখা খাতুন বলেন, ইকরামুল ছুটিতে বাড়িতে এসে গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। সকালে দোকানে গেলে আমাকে গালাগাল করে এবং আমার ছেলেকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বলে যেখানে পাবে সেখানে কুপিয়ে মারবে।
আরেক বাসিন্দা আরমান হোসেন বলেন, নগরবাথান বাজারে আমাদের দোকানে এসে ইকরামুল রাম দা হাতে ভয়ভীতি দেখায়। আত্মরক্ষা করতে গেলে আমার শরীরেও রাম দায়ের আচড় লেগেছে। পরে বাজারের লোকজন জড়ো হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তখন বাজারের লোকজন তাকে ধরে হালকা মারধর করলে সেখান থেকে সে চলে যায়। রাম দা হাতে তার ভিডিও গ্রামের লোকজন মোবাইলে ধারণ করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজিবি সদস্য মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, আমি পটলের গাছ কাটিনি। আমার জমিতে লাগানো কলা গাছ উপড়ে দিয়েছি। আমার বাবা জমিজমা বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে। তিনি বলেন, আমি গ্রামের কাউকে মারতে যাইনি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

No comments