ললিপপ খাওয়ায় ছাত্রীকে মারধর, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রবিউল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে টিফিনের সময় মাদ্রাসার কমনরুমে বসে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে শ্রাবন্তী খাতুন (১৪) নামের এক ছাত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবার। পরে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন- দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন। আর শ্রাবন্তি ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) টিফিনের সময় আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে শ্রাবন্তি কমনরুমে বসে ললিপপ খাচ্ছিলেন। এই সময় সহকারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন তাকে বকাঝকা ও একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। এরপর সে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এটি শিক্ষকের শাসন হিসেবে তার মা তাকে শান্তনা দেয়। পরদিন সকালে আবার মাদ্রাসায় আসলে সুপার দেলোয়ার হোসেন শ্রাবন্তিকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তারপর শ্রাবন্তি বাড়ি ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানালে তার দাদা মগবুল মোল্লা মাদ্রাসায় যান বিষয়টি জানতে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা ওই বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগ পত্রে। ওই দিন বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন ওই ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করার কথা স্বীকার করে বলেন, গত সপ্তাহে মাদ্রাসায় ললিপপ খাওয়ার ব্যাপারে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি জানার পরও শ্রাবন্তি নামের ওই ছাত্রী কমনরুমে বসে ললিপপ খায় এবং শিক্ষকদের এই আদেশকে তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন কথা বলে। এই জন্য ওই ছাত্রীকে শাসন করা হয়েছে।
একই ঘটনায় দুই দিন শাস্তি দেওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগের দিনের শাস্তির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। ‘আমরা যা করেছি তা মাদ্রাসার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য করেছি’ বলে যোগ করেন তিনি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

No comments