Home
/
টপ নিউজ
/
কালীগঞ্জের সেই নানী-নাতির প্রেম শেষ হলো এক করুণ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে আটক, চোখের জলে থানার প্রাঙ্গণে হৃদয় বিদারক বিদায়-
কালীগঞ্জের সেই নানী-নাতির প্রেম শেষ হলো এক করুণ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে আটক, চোখের জলে থানার প্রাঙ্গণে হৃদয় বিদারক বিদায়-
রবিউল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার -
একজন ১৭ বছরের কিশোর, অন্যজন ৪০ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী। সম্পর্কের নাম নাতি ও নানী। কিন্তু হৃদয়ের টানে তারা হয়ে উঠেছিলেন প্রেমিক-প্রেমিকা। সমাজ যেটিকে ‘অসম’, ‘অসামাজিক’ কিংবা ‘অবৈধ’ বলে তিরস্কার করেছে, সেটিই তাদের কাছে ছিল বিশুদ্ধ ভালোবাসা।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামের এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার স্বপ্নভঙ্গ হলো বেরসিক সমাজ আর বাস্তবতার নির্মম থাপ্পড়ে।
সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তারা। আশ্রয় নিয়েছিলেন কুষ্টিয়ায়। ভালোবাসার সংসার গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন দুজনেই। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিতে পারলো না।
গত রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। থানায় নিয়ে আসার পর দৃশ্যটি ছিল হৃদয়বিদারক—এক হৃদয়ভাঙা নাটকের জীবন্ত মঞ্চ যেন। থানা প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুজনেই। কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ, আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন একে অপরকে।
তাসলিমা বারবার বলছিলেন—
“ও ছাড়া আমি বাঁচবো না... ওকে কেড়ে নিও না আমার কাছ থেকে।”
আর কিশোর মেহেদীর কণ্ঠে করুণ আর্তি—
“ওর হাতটা ধরেই তো জীবনটা শুরু করতে চেয়েছিলাম... এত তাড়াতাড়ি শেষ করে দিলো সবাই।”
কিন্তু কান্না, আকুতি, ভালোবাসা—সবই ব্যর্থ হলো ‘পারিবারিক সম্মান’, ‘সামাজিক রীতিনীতি’ আর ‘আইনের ব্যাখ্যা’র কাছে। পরিবারের চাপে পুলিশ জোর করেই তাদের আলাদা করে, আলাদা গাড়িতে তুলে দেয়।
যাত্রার শেষ প্রান্তে, যখন দুজনকে আলাদা গাড়িতে তোলা হয়—তখন তাদের চোখের জল থামেনি। দৃষ্টির শেষ বিন্দু পর্যন্ত তারা তাকিয়ে ছিলেন একে অপরের দিকে…।

No comments