কোটচাঁদপুরে নিষিদ্ধ পলিথিনে পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম আশঙ্কা
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, কোটচাঁদপুর থেকে :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহারে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রশাসনের রহস্যজনক উদাসীনতা, অন্যদিকে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর মুনাফালোভ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ড্রেন থেকে শুরু করে খাল-বিল, নদী ও ফসলি জমি—সবখানেই এখন পলিথিনের দখলদারিত্ব।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। বড় মুদি দোকান, মাছের আড়ত, মিষ্টির দোকানসহ ছোট খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। চাল, চিড়া, মুড়ি এমনকি গরম খাবারও মোড়ানো হচ্ছে নিম্নমানের পলিথিনে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
“কালীগঞ্জ থেকে এক রহস্যময় ব্যক্তি এসে দোকানে দোকানে পলিথিন পৌঁছে দিয়ে যায়। খদ্দেররা কাগজের ঠোঙা নিতে চায় না, তাই আমরাও নিরুপায়।”
পরিবেশবিদদের মতে, যত্রতত্র ফেলা পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। ড্রেন, খাল-বিল ও নদীতে পলিথিন জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের পলিথিনে মোড়ানো খাদ্যদ্রব্য শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে বিষক্রিয়া ও নানা জটিল রোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালালেও তা এখন ব্যবসায়ীদের কাছে ‘হাস্যকর’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে পলিথিন গোপন করা হয়, আর অভিযান শেষ হলেই আবার আগের মতো দাপট শুরু হয়। ফলে বাস্তবে কোনো টেকসই সমাধান আসছে না।
সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু দোকানে অভিযান চালিয়ে নয়—পলিথিন উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যাগের সহজলভ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এনামুল হাসান বলেন,
“নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন থেকেই যায়—বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কি আদৌ পলিথিনমুক্ত কোটচাঁদপুর গড়া সম্ভব? এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

No comments