তিন দিবসের বাজার ধরতে ব্যস্ত ঝিনাইদহের ফুল চাষিরা

 




ফয়সাল আহমেদ,ঝিনাইদহ: দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত। তার পরপরই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই তিনটি দিবস ঘিরেই বছরের সবচেয়ে বড় বাজারের অপেক্ষায় থাকেন ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা। এক কথায় বলতে গেলেÑএই তিন দিনের বেচাকেনাই নির্ধারণ করে দেয় সারা বছরের লাভ-লোকসানের হিসাব। আর সে কারণেই এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে গিয়ে দেখা যায়,মাঠ যেন রূপকথার হলুদ ক্যানভাস। যতদূর চোখ যায়,শত শত বিঘা জমি জুড়ে রোদে ঝিলমিল করছে গাদা ফুলের উজ্জ্বল হলুদ আভা। সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে মাথা তুলে থাকা গোল গোল ফুলগুলো যেন সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে কাঁচা ফুলের মৃদু সুবাস,যা পথচারীদেরও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে।

শুধু তালিনা নয়,জেলার কালীগঞ্জ,মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও একই চিত্র। কোথাও লাল-গোলাপের সারি,কোথাও গøাডিওলাসের লম্বা ডাঁটা,আবার কোথাও জারবেরা,চন্দ্রমল্লিকা,বোতাম ফুল ও রজনীগন্ধার ক্ষেত। রঙিন ফুলে ভরে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। এসব জমিতে ভালো ফলন ধরে রাখতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। কোথাও কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে,কোথাও আগাছা দমনে ব্যস্ত কৃষকরা। কেউ ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই সময় কাটাচ্ছেন।

ফুলচাষিরা বলছেন,বসন্ত,ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-এই তিনটি দিবসই ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার। বিশেষ করে ২১ ফেব্রæয়ারি কেন্দ্র করে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে গোলাপ,গøাডিওলাস ও জারবেরা।

ফুলচাষি টিপু বলেন,‘এই তিন দিনের দাম ভালো পেলে পুরো বছরের খরচ উঠে যায়। গত বছর দাম ভালো ছিল,এবারও সেই আশায় আছি। তবে বাজার পরিস্থিতি আর রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

ফুল ব্যবসায়ীদের মতে,এবছর ফলন ভালো হলেও আসন্ন নির্বাচন ফুলের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবহন সংকট,নিরাপত্তা ও ক্রেতা উপস্থিতি কমে গেলে দাম কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,চলতি বছরে ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ৪৮৯ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের আবাদ হয়েছে। এসব ফুল বিক্রি করে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা।

ফুলচাষিরা বলছেন,সরকারিভাবে সংরক্ষণাগার, সহজ পরিবহন ব্যবস্থা ও স্থায়ী বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঝিনাইদহের ফুল শুধু দেশের চাহিদাই মেটাবে না,রপ্তানির ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এখন সব চোখ তিনটি বিশেষ দিনের দিকে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবং বাজার ভালো হলে,এবছরও ফুলের সুবাসে হাসি ফুটবে ঝিনাইদহের ফুলচাষিদের মুখে-এমনটাই প্রত্যাশা সবার

এদিকে,ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলচাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,‘ফুল চাষ এখন একটি সম্ভাবনাময় কৃষি খাত। চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ,রোগবালাই দমন ও ফুল সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা করলে অল্প জমিতেই ভালো আয় সম্ভব।’


No comments

Powered by Blogger.