ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট, আহত দুই

রবিউল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনায় দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি দুইজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক আকাশ ইসলামের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের সমর্থকরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ভুক্তভোগী দোকান মালিক আকাশ ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর তিনি দোকানে বেচাকেনা করছিলেন। হঠাৎ করে ৪০-৫০ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে দোকানে ঢুকে প্রথমে বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করে। পরে তাঁকে মারধর করা হয় এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, দোকানের ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি চিনতে পারলেও অনেকের মাথায় হেলমেট থাকায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে একই দিন উপজেলার তিল্লা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের দুইজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া দুপুরে রাখালগাছি ইউনিয়নে ভোট চাইতে গেলে রাশেদ খানের বোন ও মহিলা কর্মীদের গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রাশেদ খানের বোন অভিযোগ করে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের দুইজন কর্মী তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.