কোটচাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার সরদার আলী আহমদ আর নেই

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার ও গণমানুষের নেতা, সাবেক সফল প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলী আহমদ আর নেই। জার্মানির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুসংবাদ কোটচাঁদপুর উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় পৌঁছালে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মরহুম সরদার আলী আহমদ কোটচাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঐতিহ্যবাহী সলেমানপুর গ্রামের হায়দার সরদারের সুযোগ্য সন্তান। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। অত্যন্ত মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত এই ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে জার্মানিতে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কোটচাঁদপুরের ইতিহাসে সরদার আলী আহমদ এক উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন। তিনি বিপুল ভোটে উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনেন। তাঁর নেতৃত্বে সড়ক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তাঁর হাতে গড়া আদর্শ হেফজ ও এতিমখানা তথা ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আজ কোটচাঁদপুরের অন্যতম প্রধান দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত।
বাল্যকাল থেকেই কোটচাঁদপুর পৌরসভার বড় মসজিদ পাড়ার নিজস্ব বাসভবনে যৌথ পরিবারের আবহে বেড়ে ওঠা এই জননেতা ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও পরোপকারী মানুষ। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল দর্শন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কোটচাঁদপুরের আপামর জনতা প্রিয় এই নেতার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করছে।
স্থানীয় আত্মীয়রা বলেন, “তিনি শুধু একজন চেয়ারম্যান ছিলেন না, ছিলেন আমাদের অভিভাবক। তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁকে চিরকাল আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে।”
কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসা ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.