কালীগঞ্জে শিবির কর্মী শামীম ও আবুজার গিফারি হত্যা মামলার আসামী সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন অপু প্রকাশ্য

 

রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আবুজর গিফারী ও শিবিরকর্মী শামীম হোসেনকে হত্যার দায়ে পৃথক দুটি মামলা হয় ১৮ সেপ্টম্বর ২০২৪ সালে। 
ওই দিন (১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার) দুপুরে বিজ্ঞ আমলী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ) আদালতে আবুজার গিফারীর বাবা নুর ইসলাম ১১ জন ও শামীম হোসেনের পিতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে কালীগঞ্জ থানার তৎকালীন  ওসিকে এজাহারভুক্ত করতে নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আমলী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কালীগঞ্জ আদালতের বিচারক রোমানা আফরোজ।

দুটি মামলায় ১৬ জন আসামির অন্যতম ছিলেন রায়গ্রাম ইউনিয়নের বিনা ভোটের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন অপু। 


মামলার বিবরণে আবুজার গিফারীর পিতা নুর ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে চাপালী লস্কারপাড়া থেকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন সাদা পোশাকধারী জোরপূর্বক আবুজার গিফারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার চিৎকারে বাড়ি থেকে গিফারীর মা আসলে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ‍তুলে নিয়ে যায়।
এরপর সাবেক সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করলেও তারা এড়িয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।
আরেক মামলার এজাহারে শামীম হোসেনের পিতা রুহুল আমিন উল্লেখ করেছেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব পাশের গেটের সামনে থেকে দুই মোটরসাইকেলে থাকা সাদা পোশাকধারী চারজন তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এরপর বিভিন্ন অফিসে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পায়নি পরিবার। পরে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিবিরকর্মী পরিবার দুটি   ২০২৪ সালে মামলা করতে সক্ষম হয়
উল্লেখ্য,  ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে আলী হোসেন অপু গা ঢাকা দেয়। পরে বিএনপির পার্টি অফিস পোড়ানোর অভিযোগে তার নামে ৩ টি মামলা হয়। বর্তমানে হত্যাসহ তার নামে ৫ টি মামলা চলমান।

No comments

Powered by Blogger.