দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জ পৌরবাসী

 

বাবুল আক্তার,স্টাফ রিপোর্টার :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা ও কালচে রঙের উপস্থিতির অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে অতিষ্ঠ কালীগঞ্জ পৌরবাসী। বিশেষ করে যেসব বাসাবাড়ি ও ছাত্রাবাস গুলোতে নিজস্ব টিউবওয়েল নেই, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রæত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময় সাপেক্ষ ও কষ্টকর।

শিবনগর বোষ্টম পাড়ার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। মাঝেমধ্যেই এমন হয়। এই পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। অভিযোগ দিলে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একই এলাকার গৃহবধূ সেলিনা খাতুন বলেন, পানির এই অবস্থার কারণে রান্না-বান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমরা ন্যুনতম সেবা পাচ্ছি না। শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আশিক জানায়, আমাদের মেসে কোনো টিউবওয়েল নেই। পুরোপুরি পৌরসভার পানির উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দিন এমন যায়, পানির অভাবে গোসল না করেই কলেজে যেতে হয়। মধুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা লিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরেই পানির মান খারাপ। এক গøাস পানিতে যেন অর্ধেকই আয়রন ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করা যায় না। দ্রæত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় মোট ছয়টি পানির পাম্প রয়েছে। এগুলি হলো পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ড চাপালি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা, নিশ্চিন্তপুর, আড়পাড়া, বাস টার্মিনাল ও বৈশাখী ফিলিং স্টেশন এলাকায়। বর্তমানে আড়পাড়ার পানির পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া পুরনো পাইপলাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপে মরিচা ও ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে জং, কাদা ও ময়লা পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তবে সরবরাহের এই সময়সূচি থাকলেও পানির মান নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় ছয়টি পাম্প রয়েছে, যার একটি বর্তমানে অচল। সেটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরনো পাইপলাইন ও লাইনে জমে থাকা ময়লার কারণে সাময়িক ভাবে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ হতে গত রোজার আগে কিছু এলাকায় পাইপগুলো পরিস্কার করা হয়েছিল। আবারও পাইপ কিছু এলাকায় পরিষ্কার করা দরকার। আমরা খুব দ্রুত পরিস্কার করে দেবো। আমরা সব জায়গায় খোজ নিচ্ছি, কোথাও লিকেজ পয়েন্ট পাচ্ছি না। সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার পরিস্কার করবো। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে পৌরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, খুব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 


No comments

Powered by Blogger.