মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামী গ্রেফতার আদালতে স্বীকারোক্তি


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রত্যেকেই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগদিরাইট গ্রামের আছের আলী রাজু, হাফিজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুলের ছেলে শাওন, দিনুর ছেলে নয়ন ও ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ মার্চ রাতে ভিকটিম তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে ওই প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবক ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রেমিককে মারধর করে সরিয়ে দেয়। পরে তারা ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার সময় আমিন নামে এক আসামি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ৩১ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশ এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর পায়। শুরুতে ভিকটিমের পরিবার সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে শতভাগ আইনি সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পর তারা মামলা করতে রাজি হন। ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের নামে মহেশপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সমর্থ হন। ইতিমধ্যে ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।”


No comments

Powered by Blogger.