কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় পৃথক দুই মামলা, আসামি ২-৩ শত

 

রবিউল ইসলাম স্টাফ  রিপোর্টার :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে হাবিব হোসেন নিহত ও সুমন হোসেন আহত হওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো মামলা না করলেও আহত সুমনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ২ থেকে ৩ শত অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। অপর মামলাটি করেছেন চুরি হওয়া গরুর মালিক বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে বারবাজার এলাকায় গরু চুরি সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। এতে যশোর সদরের আরাপপুর গ্রামের হাবিব হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সুমন হোসেন গুরুতর আহত হন।

ওসি বলেন, আহত সুমনের বড় ভাই বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। পাশাপাশি চুরি হওয়া গরুর মালিকও মামলা করেছেন। নিহতের পরিবার এখনো অভিযোগ না দিলেও তারা থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়ার বিধান রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে বারবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা চোরদের সন্ধানে বের হন। রাত ৩টার দিকে পিরোজপুর বটতলা এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে তারা। পরে তাদের বাদুরগাছা গ্রামে নিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই হাবিব হোসেন নিহত এবং সুমন হোসেন গুরুতর আহত হন।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের পাশাপাশি গরু চুরির অভিযোগও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.