কালীগঞ্জে রাশেদ খানের সঙ্গে মতবিনিময় শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে কাজ করার অঙ্গীকার

স্টাফ রিপোর্টার : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী সচিব পদমর্যাদায় এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত জনাব মোঃ রাশেদ খানের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধী সমাজের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কালীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী সচিব পদমর্যাদা রাশেদ খান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ নুরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, ইসরাইল হোসেন জীবন, সামছুল আলম, আবুল কালাম আজাদ, ইলিয়াস রহমান মিঠু, নজরুল ইসলাম, আশরাফুজ্জামান লাল, মোকসুদুল মোমিন, বাবুল আক্তার, জহির হাসান মহন, সোহরাব হোসেন রাজু, সাহাবুদ্দিন আহমেদ, মোজাম্মেল হক, এএইচএম আলিম, মাহবুবুর রহমান মিলন, মারুফ বিল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ রাশেদ খান বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের সকল ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।” তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত বিএনপিই আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।” সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ জনকল্যাণমূলক যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেগুলো এগিয়ে নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।” প্রধান বক্তা হামিদুল ইসলাম হামিদ বলেন, “দলের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। অতীতের ভুল-ত্রুটি ও বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনের জন্য কাজ করতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমন্বয় থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ যেন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করে দলকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” শতাধিক নেতাকর্মীর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করা বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে মোহাম্মদ আলী খাঁসহ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তারা দলের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতের মতপার্থক্য ভুলে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সভায় দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করা, আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। মতবিনিময় সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.